এক নজরে
শুকনো বাতাস, কম রোদ আর গরম পানির গোসলে শীতে সোরিয়াসিস বাড়ে। কুসুম গরম পানিতে ছোট গোসল, তারপর Cetaphil Moisturizing Cream এর মতো সুগন্ধিহীন ঘন ক্রিম দিন; আঁশ টানবেন না, ফার্মেসির স্টেরয়েড মিশ্রণ নিজে লাগাবেন না, চিকিৎসা ঠিক করবেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ।
✓ ভেরিফায়েড • ২× মানি-ব্যাকCetaphil Moisturizing Cream Dry to Very Dry, Sensitive Skinশুরু ৳1,000কিনুন →ছোট উত্তর
শীতে সোরিয়াসিস বাড়ে মূলত তিনটা কারণে: বাতাস শুকনো, রোদ কম, আর আমরা গরম পানিতে লম্বা সময় গোসল করি। সোরিয়াসিস কোনো ক্রিমে "সেরে যায়" না; এটা দীর্ঘমেয়াদি রোগ, চিকিৎসা ঠিক করবেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। তবে দুই ভিজিটের মাঝে ঘরে যে কোমল যত্নটা করবেন, সেটা ঠিক হলে চুলকানি, টান আর ফাটা অনেক কম থাকে। নিয়মটা সহজ: কুসুম গরম পানিতে ১০ মিনিটের কম গোসল, তারপর ৩ মিনিটের মধ্যে সুগন্ধিহীন ঘন ক্রিম, যেমন Cetaphil Moisturizing Cream Dry to Very Dry, Sensitive Skin। শরীরের বড় জায়গায় CeraVe Moisturising Lotion for Dry to Very Dry Skin সহজে ছড়ায়। আঁশ টেনে তুলবেন না, স্ক্রাব করবেন না, আর ফার্মেসি থেকে "মলম মিশিয়ে" স্টেরয়েড কিনে নিজে লাগাবেন না।
একটা কথা সৎভাবে বলি: সোরিয়াসিসের জন্য বিশেষ ওষুধযুক্ত (মেডিকেটেড) ক্রিম, ইউরিয়া ক্রিম বা কোল টার জাতীয় পণ্য এখন আমাদের শেলফে নেই। ওগুলো ডাক্তারের পরামর্শে নেওয়ার জিনিস। আমরা যা দিতে পারি, সেটা হলো প্রতিদিনের মৃদু ক্লিনজার আর ঘন ময়েশ্চারাইজার, যা ডাক্তারের দেওয়া চিকিৎসার পাশাপাশি ত্বককে আরাম দেয়।
শীতে সোরিয়াসিস কেন বাড়ে
শুকনো বাতাস আর উত্তুরে হাওয়া
ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। ত্বকের ওপরের স্তর থেকে পানি দ্রুত উড়ে যায়। সোরিয়াসিসের প্যাচ এমনিতেই শুকনো আর পুরু, তাই শীতে সেগুলো আরও টানটান হয়, ফেটে যায়, চুলকায়। কনুই, হাঁটু, মাথার তালু আর পিঠের নিচের দিকে এটা সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যায়।
রোদ কম, কাপড় বেশি
অনেকের ক্ষেত্রে হালকা রোদ সোরিয়াসিসে কিছুটা আরাম দেয়, তাই চিকিৎসকেরা কখনো কখনো নিয়ন্ত্রিত আলো-চিকিৎসা দেন। শীতে কুয়াশা আর ছোট দিনের কারণে রোদ কম পাই, শরীর ঢাকা থাকে সোয়েটার আর চাদরে। তবে নিজে থেকে লম্বা সময় রোদে বসে থাকবেন না; রোদে পুড়লে উল্টো নতুন প্যাচ উঠতে পারে। রোদ নিয়ে কী করবেন, সেটা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
গরম পানি, উলের কাপড়, রুম হিটার
খুব গরম পানিতে গোসল ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে। উলের সোয়েটার সরাসরি ত্বকে ঘষা খেলে চুলকানি বাড়ে, আর চুলকালে নতুন জায়গায় প্যাচ উঠতে পারে (একে কোয়েবনার প্রতিক্রিয়া বলে)। ঘরে হিটার চললে বাতাস আরও শুকিয়ে যায়।
মানসিক চাপ, ঘুম আর ঠান্ডা-জ্বর
শীতে সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা বেশি হয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গলার সংক্রমণের পর সোরিয়াসিস বেড়ে যায়। বছর শেষের কাজের চাপ, বিয়ের দাওয়াত আর রাত জাগাও প্রভাব ফেলে। এগুলো পুরোপুরি এড়ানো যায় না, কিন্তু জানলে নিজেকে একটু সামলানো যায়।
দুই ডাক্তার-ভিজিটের মাঝে প্রতিদিনের কোমল যত্ন
গোসলের নিয়ম
- পানি হবে কুসুম গরম, হাতের কবজিতে দিলে আরাম লাগবে, ছ্যাঁকা লাগবে না।
- গোসল ১০ মিনিটের মধ্যে শেষ করুন। প্রতিদিন গোসল ঠিক আছে, শুধু লম্বা না করলেই হলো।
- সাবানের বদলে মৃদু, সুগন্ধিহীন ক্লিনজার নিন, যেমন Cetaphil Gentle Skin Cleanser Normal To Dry Skin, অথবা বার পছন্দ হলে Cetaphil Gentle Cleansing Bar। শুধু যেখানে ঘাম জমে (বগল, কুঁচকি, পা) সেখানে লাগালেই যথেষ্ট।
- গামছা দিয়ে ঘষবেন না, আলতো করে চেপে পানি মুছুন। ত্বক একটু ভেজা থাকুক।
গোসলের পর ৩ মিনিট
- ভেজা ত্বকেই ময়েশ্চারাইজার দিন। বড় জায়গায় (হাত, পা, পিঠ) CeraVe Moisturising Lotion for Dry to Very Dry Skin: পুরো এক হাতে প্রায় এক চা চামচ।
- কনুই, হাঁটু আর পুরু প্যাচে Cetaphil Moisturizing Cream Dry to Very Dry, Sensitive Skin এর মতো ঘন ক্রিম, মোটা স্তরে। ঘষে ঘষে নয়, লোমের দিকে আলতো করে বুলিয়ে দিন।
- ডাক্তার কোনো ওষুধ দিয়ে থাকলে কোনটা আগে আর কোনটা পরে লাগাবেন, কত মিনিট অপেক্ষা করবেন, সেটা ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন। নিজে থেকে ক্রম বদলাবেন না।
দিনে আর রাতে
- দিনে হাত ধোয়ার পর আর অজুর পর হাতে-পায়ে অল্প ক্রিম আবার দিন। ঘন ঘন অজু করলে এটা বিশেষ জরুরি।
- রাতে ঘুমানোর আগে প্যাচে আরেকবার ঘন ক্রিম। ওপরে পাতলা সুতির ফুলহাতা জামা বা মোজা পরলে ক্রিম রাতভর থাকে।
- ঠোঁট ফাটলে Vaseline Lip Therapy Cocoa Butter দিন; সোরিয়াসিস অনেক সময় ঠোঁটের কোণেও শুকনো ভাব আনে।
- নখ ছোট রাখুন, যাতে ঘুমের মধ্যে চুলকালেও চামড়া না ছেঁড়ে।
আঁশ নিয়ে কী করবেন
সাদা রুপালি আঁশ দেখতে খারাপ লাগে, তাই অনেকে নখ দিয়ে টেনে তোলেন। এতে রক্ত বের হয়, জ্বালা হয়, সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, আর সেখানে প্যাচ আরও শক্ত হয়। গোসলের পর আঁশ নরম হলে ময়েশ্চারাইজার দিন; আঁশ নিজে থেকে ধীরে ধীরে উঠে যাবে। মাথার তালুর আঁশের জন্য ডাক্তারের দেওয়া শ্যাম্পু বা লোশনই সঠিক পথ; নিজে চিরুনি দিয়ে খুঁচবেন না।
মন আর ঘুম
- রাতে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের চেষ্টা করুন।
- প্রতিদিন ১৫–২০ মিনিট হাঁটা, নামাজ, প্রার্থনা বা শ্বাসের ব্যায়াম মন শান্ত রাখে।
- ধূমপান আর অ্যালকোহল সোরিয়াসিস খারাপ করতে পারে; কমানোর চেষ্টা করুন।
- রোগটা ছোঁয়াচে নয়। পরিবারের লোকজনকে এটা বুঝিয়ে বলুন; লুকিয়ে রাখার চাপ কমলে অনেকের মনও হালকা হয়।
যা করবেন না (সাধারণ ভুল)
- ফার্মেসি থেকে স্টেরয়েড মলম বা "মিক্সচার" কিনে নিজে লাগানো। অনেক দোকানে কয়েকটা মলম মিশিয়ে কৌটায় ভরে দেওয়া হয়। এতে প্রায়ই কড়া স্টেরয়েড থাকে। লম্বা সময় ব্যবহারে ত্বক পাতলা হয়ে যায়, দাগ পড়ে, আর হঠাৎ বন্ধ করলে সোরিয়াসিস আগের চেয়ে জোরে ফিরে আসতে পারে। স্টেরয়েড শুধু ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে, তাঁর বলা জায়গায় আর সময়ে।
- খাওয়ার ওষুধ নিজে শুরু বা বন্ধ করা। কারও পরামর্শে বা আগের প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ খাবেন না; আবার চলমান ওষুধ নিজে থেকে বন্ধও করবেন না।
- স্ক্রাব, লুফা, ঝামা পাথর। প্যাচে ঘষলে ক্ষত হয়, প্যাচ ছড়ায়।
- কড়া সুগন্ধি লোশন আর অ্যালকোহলযুক্ত পণ্য। জ্বালা বাড়ায়।
- লেবু, বেকিং সোডা, কেরোসিন, ডেটল মেশানো পানি। এগুলো ঘরোয়া টোটকা নয়, ত্বকের ক্ষতি।
- খুব গরম পানিতে লম্বা গোসল। সাময়িক আরাম, পরে বেশি চুলকানি।
- "এক মাসে পুরোপুরি সেরে যাবে" বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস। সোরিয়াসিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, কিন্তু কেউ নিশ্চিত স্থায়ী সমাধানের কথা দিলে সাবধান।
বাংলাদেশের বাস্তবতা
আমাদের দেশে সোরিয়াসিস নিয়ে লজ্জা আর ভুল ধারণা দুটোই বেশি। অনেকে ভাবেন এটা ছোঁয়াচে, বা "রক্ত খারাপ" হওয়ার লক্ষণ। ফলে মানুষ ডাক্তারের কাছে না গিয়ে পাড়ার দোকান থেকে মলম কেনেন, বা কবিরাজি তেল লাগান। শীতে গ্রামে আর মফস্বলে খুব গরম পানিতে গোসল, সরিষার তেল মেখে রোদে বসা, আর উলের চাদর গায়ে জড়ানো সাধারণ ব্যাপার। সরিষার তেল কারও কারও ত্বকে জ্বালা করে; সুগন্ধিহীন ক্রিম সাধারণত বেশি নিরাপদ।
সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আর জেলা সদর হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগে কম খরচে দেখানো যায়। একবার রোগ নির্ণয় আর চিকিৎসার পরিকল্পনা হয়ে গেলে, ঘরের এই যত্নটুকু সেই চিকিৎসাকে আরও কাজের করে তোলে। আরও বিস্তারিত শীতের রুটিন পাবেন শীতের ২৪ ঘণ্টার স্কিনকেয়ার রুটিন লেখায়, আর শীতের নানা সমস্যার ছোট উত্তর পাবেন শীতের সমস্যা: প্রশ্ন ও উত্তর পাতায়।
কেন আসল পণ্য জরুরি
সোরিয়াসিসের ত্বক এমনিতেই সংবেদনশীল। নকল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ক্রিমে অজানা সুগন্ধি বা ভেজাল থাকলে জ্বালা আর চুলকানি বাড়তে পারে। TheSkinProof একটি ইনভয়েস-ভেরিফায়েড স্কিনকেয়ার মার্কেটপ্লেস: প্রতিটি পণ্যের উৎসের ইনভয়েস যাচাই করা হয়। কোনো পণ্য নকল প্রমাণিত হলে ডেলিভারির ৭ দিনের মধ্যে দাবি করলে দ্বিগুণ টাকা ফেরত। সারা বাংলাদেশে ডেলিভারি, ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা আছে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
নিচের যেকোনোটা হলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান:
- নতুন করে শরীরে লাল, পুরু, রুপালি আঁশওয়ালা প্যাচ উঠেছে, আর আগে কখনো রোগ নির্ণয় হয়নি।
- প্যাচ দ্রুত ছড়াচ্ছে, বা শরীরের বড় অংশ জুড়ে গেছে।
- প্যাচে পুঁজভরা ছোট দানা, বা পুরো শরীর লাল হয়ে গেছে, সঙ্গে জ্বর বা কাঁপুনি। এটা জরুরি অবস্থা হতে পারে; সেদিনই হাসপাতালে যান।
- গিঁটে (আঙুল, হাঁটু, গোড়ালি, কোমর) ব্যথা, ফোলা বা সকালে জড়তা।
- নখে গর্ত, নখ হলুদ হয়ে যাওয়া বা নখ উঠে আসা।
- ফাটা জায়গা থেকে রক্ত, পুঁজ, গরম ভাব বা ব্যথা বাড়ছে (সংক্রমণের লক্ষণ)।
- চুলকানিতে রাতে ঘুম হচ্ছে না, বা মন খুব খারাপ থাকছে।
- ডাক্তারের দেওয়া চিকিৎসায় ৪–৬ সপ্তাহেও উন্নতি নেই, বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে।
- গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, আর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন আছে।
আরও পড়ুন
- একজিমার জন্য স্কিনকেয়ার
- শীতে শরীর চুলকায় কেন
- শীতে গরম পানিতে গোসল ও ত্বক
- রুম হিটার, কম্বল ও উলের কাপড় কি ত্বকের ক্ষতি করে?
কী লাগাবেন, কীভাবে লাগাবেন, কোথায় কিনবেন
ধাপে ধাপে, সময় অনুযায়ী। প্রতিটি পণ্য ইনভয়েস যাচাই করা।
- ১
গোসলের ঠিক পরে
কুসুম গরম পানিতে মৃদু ক্লিনজার
১০ মিনিটের কম গোসল। শুধু ঘামের জায়গায় অল্প ক্লিনজার, প্যাচে ঘষবেন না। গামছা দিয়ে চেপে মুছুন।
Cetaphil Gentle Skin Cleanser Normal To Dry Skin৳৯৯৯কিনুন - ২
গোসলের ঠিক পরে
গোসলের পর শরীরে লোশন
গোসলের ৩ মিনিটের মধ্যে ভেজা ত্বকে। এক হাতে বা এক পায়ে প্রায় এক চা চামচ, আলতো করে বুলিয়ে দিন।
CeraVe Moisturising Lotion for Dry to Very Dry Skin৳১,৬৪৯কিনুন - ৩
গোসলের ঠিক পরে
প্যাচে ঘন ক্রিম
কনুই, হাঁটু আর পুরু প্যাচে মোটা স্তরে। ডাক্তারের ওষুধ থাকলে কোনটা আগে লাগাবেন, তা ডাক্তারের কাছে জেনে নিন।
Cetaphil Moisturizing Cream Dry to Very Dry, Sensitive Skin৳১,০০০কিনুন - ৪
দিনের বেলা
হাত ধোয়া বা অজুর পর
প্রতিবার হাত-পা ধোয়ার পর মটরদানার মতো ক্রিম। এতে ফাটা আর টান কম হয়।
Cetaphil Moisturizing Cream Dry to Very Dry, Sensitive Skin৳১,০০০কিনুন - ৫
ঘুমানোর আগে
ঘুমের আগে ঠোঁট আর প্যাচ
ঠোঁটে লিপ বাম মোটা করে, প্যাচে আরেক স্তর ক্রিম। ওপরে পাতলা সুতির জামা বা মোজা পরুন, উল নয়।
Vaseline Lip Therapy Cocoa Butter৳২৯৮কিনুন
💡 ক্রিম চিকিৎসার বদলি নয়, সঙ্গী। ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ ঠিকমতো চালান, আর ঘরে প্রতিদিন কোমল যত্ন রাখুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
শীতে সোরিয়াসিস বেড়ে যায় কেন?
মূলত শুকনো বাতাস, কম রোদ আর গরম পানিতে লম্বা গোসলের কারণে। শীতে ত্বক থেকে পানি দ্রুত উড়ে যায়, প্যাচ টানটান হয়ে ফাটে আর চুলকায়। উলের কাপড়ের ঘষা, রুম হিটার, সর্দি-গলা ব্যথা আর মানসিক চাপও অনেকের ক্ষেত্রে সোরিয়াসিস বাড়ায়। চিকিৎসা ঠিক করবেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ।
সোরিয়াসিস হলে শীতে কোন ক্রিম লাগাব?
সুগন্ধিহীন ঘন ময়েশ্চারাইজার, যেমন Cetaphil Moisturizing Cream Dry to Very Dry, Sensitive Skin। গোসলের পর ৩ মিনিটের মধ্যে ভেজা ত্বকে মোটা স্তরে দিন, রাতে আরেকবার। এটা চিকিৎসা নয়, ডাক্তারের দেওয়া ওষুধের পাশাপাশি শুষ্কতা আর চুলকানি কমায়। ওষুধযুক্ত সোরিয়াসিস ক্রিম এখন আমাদের শেলফে নেই।
সোরিয়াসিসে কি প্রতিদিন গোসল করা যাবে?
হ্যাঁ, যাবে, তবে কুসুম গরম পানিতে আর ১০ মিনিটের মধ্যে। সাবানের বদলে মৃদু সুগন্ধিহীন ক্লিনজার শুধু ঘামের জায়গায় দিন। গামছা দিয়ে না ঘষে চেপে মুছুন, তারপর ভেজা ত্বকেই ময়েশ্চারাইজার লাগান। খুব গরম পানি আর লম্বা গোসল চুলকানি বাড়ায়।
সোরিয়াসিসের আঁশ কি টেনে তুলে ফেলা উচিত?
না। নখ দিয়ে আঁশ টানলে রক্ত বের হয়, সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে আর সেখানে প্যাচ আরও শক্ত হতে পারে। গোসলের পর আঁশ নরম থাকতে ঘন ক্রিম দিন, ধীরে ধীরে নিজে থেকে উঠে যাবে। মাথার তালুর আঁশের জন্য ডাক্তারের দেওয়া শ্যাম্পু বা লোশন ব্যবহার করুন।
ফার্মেসির মলম মিশিয়ে লাগালে কি সোরিয়াসিস ভালো হয়?
না, এটা ঝুঁকিপূর্ণ। দোকানে মেশানো মলমে প্রায়ই কড়া স্টেরয়েড থাকে। দীর্ঘদিন লাগালে ত্বক পাতলা হয়, দাগ পড়ে, আর হঠাৎ বন্ধ করলে সোরিয়াসিস আগের চেয়ে বেশি বাড়তে পারে। স্টেরয়েড বা যেকোনো ওষুধ শুধু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে আর তাঁর বলা নিয়মে।
সোরিয়াসিস কি ছোঁয়াচে?
না, সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে নয়। এটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত একটা দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা। একসঙ্গে খাওয়া, ঘুমানো বা ছোঁয়ায় অন্যের হয় না। পরিবারকে এটা বুঝিয়ে বললে লুকিয়ে রাখার মানসিক চাপ কমে, যা নিজেও অনেকের সোরিয়াসিস সামলাতে সাহায্য করে।
সোরিয়াসিস হলে কখন ডাক্তার দেখাব?
নতুন প্যাচ উঠলে আর আগে রোগ নির্ণয় না হলে, দ্রুত ছড়ালে, গিঁটে ব্যথা বা ফোলা হলে, নখে গর্ত হলে, ফাটা জায়গায় পুঁজ বা ব্যথা বাড়লে, বা চুলকানিতে ঘুম না হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান। পুরো শরীর লাল হয়ে গেলে বা পুঁজভরা দানার সঙ্গে জ্বর এলে সেদিনই হাসপাতালে যান।
