Skip to main content
✓ 100% Verified Products2× Money Back if FakeFree Delivery across BD*bKash · Nagad · COD

শিশু ও নবজাতকের শীতের যত্ন

গোসল, তেল মালিশ, গাল ও ঠোঁট ফাটা, স্কুলে যাওয়ার আগে কী লাগাবেন।

শীতে নবজাতককে কত দিন পর পর গোসল করাবো?

শীতে নবজাতককে সপ্তাহে ২–৩ বার গোসল করালেই যথেষ্ট; প্রতিদিন দরকার নেই। মাঝের দিনগুলোতে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় দিয়ে মুখ, গলার ভাঁজ আর ডায়াপারের জায়গা মুছে দিন। নাভি না শুকানো পর্যন্ত টাবে না বসিয়ে স্পঞ্জ বাথ দিন। গোসলের পর মুছে ২–৩ মিনিটের মধ্যে Aveeno Baby Daily Moisture Lotion পাতলা করে লাগান।

শীতে বাচ্চার গোসলের পানি কতটা গরম হবে?

বাচ্চার গোসলের পানি হবে কুসুম গরম, মোটামুটি শরীরের তাপমাত্রার কাছাকাছি (৩৬–৩৮°C), ধোঁয়া ওঠা গরম নয়। থার্মোমিটার না থাকলে কনুই ডুবিয়ে দেখুন: আরামদায়ক উষ্ণ লাগলে ঠিক আছে। আগে ঠান্ডা পানি, পরে গরম মেশান। গোসল ৫–১০ মিনিটে শেষ করুন, ঘর আগে থেকে গরম রাখুন, আর সাবানের বদলে অল্প Cetaphil Baby Wash & Shampoo ব্যবহার করুন।

শীতে বাচ্চার গোসলে কোন সাবান বা বেবি ওয়াশ ভালো?

শীতে বাচ্চার জন্য মাইল্ড, কম ফেনার বেবি ওয়াশ বা বেবি বার ভালো, যেমন Cetaphil Baby Mild Bar বা Cetaphil Baby Wash & Shampoo। শুধু ঘাম জমে এমন জায়গায় (গলা, বগল, ডায়াপারের জায়গা) অল্প ব্যবহার করুন, বাকি শরীর পানিতেই পরিষ্কার হয়। কাপড় কাচার সাবান, অ্যান্টিসেপটিক সাবান বা বড়দের সুগন্ধি বডি ওয়াশ ব্যবহার করবেন না।

শীতে বাচ্চার জন্য কোন বেবি লোশন ভালো?

শীতে সুগন্ধিমুক্ত বা খুব হালকা, শিশুর জন্য তৈরি লোশন বেছে নিন, যেমন Aveeno Baby Daily Moisture Lotion। লেবেলে oat, glycerin, ceramide জাতীয় উপাদান ভালো; কড়া পারফিউম আর রং এড়িয়ে চলুন। গোসলের পর আর রাতে ঘুমানোর আগে সারা শরীরে পাতলা করে লাগান। ত্বক খুব শুকনো হলে গাল আর হাত-পায়ে Sebamed Baby Cream Extra Soft দিন।

বাচ্চার জন্য শীতে লোশন নাকি ক্রিম, কোনটা দেবো?

স্বাভাবিক ত্বকে লোশন যথেষ্ট, কিন্তু শীতে ত্বক খসখসে বা লালচে হলে ঘন ক্রিম বেশি কাজ করে। দিনে সারা শরীরে Aveeno Baby Daily Moisture Lotion আর রাতে শুকনো জায়গায় (গাল, কনুই, হাঁটু) Sebamed Baby Cream Extra Soft লাগাতে পারেন। ভেজা ত্বকে, গোসলের পরপরই লাগালে আর্দ্রতা বেশি আটকে থাকে।

শীতে বাচ্চাকে সরিষার তেল দিয়ে মালিশ করা কি ভালো?

সরিষার তেল বাচ্চার জন্য সবচেয়ে ভালো পছন্দ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে এটি কিছু বাচ্চার ত্বকে জ্বালা করতে পারে এবং ত্বকের সুরক্ষা স্তর দুর্বল করে দিতে পারে, বিশেষ করে নবজাতকের। তাই অনেক ডাক্তার সুগন্ধিমুক্ত বেবি ময়েশ্চারাইজার দিয়ে মালিশ করতে বলেন, যেমন Aveeno Baby Daily Moisture Lotion। মালিশ নিজে ভালো; শুধু তেলটা বদলান।

শীতে বাচ্চার মালিশ কি দরকার, কীভাবে করবো?

মালিশ বাধ্যতামূলক নয়, তবে এতে বাচ্চা আরাম পায় আর আপনার সাথে বন্ধন বাড়ে। গোসলের পর গরম ঘরে, খাওয়ানোর অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট পরে, ৫–১০ মিনিট হালকা হাতে মালিশ করুন। অল্প Aveeno Baby Daily Moisture Lotion হাতে নিয়ে পা থেকে শুরু করুন। মুখে, চোখের কাছে আর নাভির উপর চাপ দেবেন না; বাচ্চা কাঁদলে থামুন।

বাচ্চার ত্বকে নারিকেল তেল দেওয়া যাবে কি?

বড় বাচ্চার শুকনো ত্বকে অল্প খাঁটি ভার্জিন নারিকেল তেল সাধারণত চলে, তবে নবজাতক বা ৬ মাসের কম বয়সে সুগন্ধিমুক্ত বেবি ময়েশ্চারাইজারই নিরাপদ পছন্দ। নারিকেল তেল দিলে আগে পায়ের ছোট জায়গায় একদিন লাগিয়ে দেখুন, লাল দানা হলে বন্ধ করুন। সুগন্ধি মেশানো হেয়ার অয়েল দেবেন না। সহজ বিকল্প: Sebamed Baby Cream Extra Soft।

অলিভ অয়েল দিয়ে বাচ্চার মালিশ করা কি ঠিক?

অলিভ অয়েল বাচ্চার শুকনো ত্বকের জন্য আদর্শ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত লাগালে এটি নবজাতকের ত্বকের সুরক্ষা স্তর কিছুটা দুর্বল করতে পারে, আর একজিমার ঝুঁকি থাকা বাচ্চার জন্য এটা বিশেষ করে এড়ানো ভালো। শীতে মালিশের জন্য সুগন্ধিমুক্ত বেবি লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করুন, যেমন Aveeno Baby Daily Moisture Lotion।

শীতে বাচ্চার গাল লাল হয়ে ফেটে যাচ্ছে, কী লাগাবো?

বাচ্চার লাল, ফাটা গালে দিনে ২–৩ বার ঘন, সুগন্ধিমুক্ত বেবি ক্রিম লাগান, যেমন Sebamed Baby Cream Extra Soft। বাইরে নেওয়ার আগে আর ঘুমের আগে অবশ্যই দিন। মুখ ঘষে মুছবেন না, নরম কাপড়ে আলতো চেপে শুকান। ঠান্ডা বাতাসে বের হলে গাল ঢেকে রাখুন। এক সপ্তাহেও না কমলে, চুলকালে বা পানি ঝরলে ডাক্তার দেখান।

লালা পড়ে বাচ্চার থুতনি আর গালে র‍্যাশ হয়েছে, কী করবো?

লালার র‍্যাশে মূল কাজ হলো জায়গাটা শুকনো রাখা আর একটা সুরক্ষা স্তর দেওয়া। নরম সুতি কাপড়ে লালা আলতো চেপে মুছুন, ঘষবেন না। খাওয়ানোর পরে আর ঘুমের আগে পাতলা করে Sebamed Baby Cream Extra Soft লাগান, যাতে লালা সরাসরি ত্বকে না লাগে। ভেজা বিব দ্রুত বদলান। ফোসকা, পুঁজ বা জ্বর হলে ডাক্তার দেখান।

শীতে বাচ্চার ঠোঁট ফেটে গেছে, কী দেবো?

বাচ্চার ফাটা ঠোঁটে খুব অল্প সুগন্ধিমুক্ত বেবি ক্রিম আঙুলের ডগায় নিয়ে দিনে কয়েকবার লাগান, যেমন Sebamed Baby Cream Extra Soft। খাওয়ানোর পর মুখ মুছে তারপর দিন। বড়দের রঙিন, সুগন্ধি বা SPF লিপ বাম ছোট বাচ্চার ঠোঁটে দেবেন না, কারণ বাচ্চা চেটে খেয়ে ফেলে। ঠোঁট ফেটে রক্ত পড়লে বা খেতে না চাইলে ডাক্তার দেখান।

শীতে ডায়াপার র‍্যাশ বেড়ে গেছে, কী করবো?

ডায়াপার র‍্যাশে সবচেয়ে কাজের নিয়ম হলো দ্রুত ডায়াপার বদলানো আর জায়গা শুকনো রাখা। শীতে মানুষ কম বদলায় বলে র‍্যাশ বাড়ে। প্রতিবার কুসুম গরম পানি আর নরম কাপড়ে পরিষ্কার করে, আলতো শুকিয়ে, কয়েক মিনিট খোলা রাখুন। জিংক অক্সাইডের আলাদা ডায়াপার ক্রিম এখন আমাদের শেলফে নেই; ফার্মেসি থেকে নিতে পারেন। ফোসকা, পুঁজ, জ্বর বা ৩ দিনে না কমলে ডাক্তার দেখান।

বাচ্চার মাথায় হলুদ খুশকির মতো আঁশ (ক্র্যাডল ক্যাপ), কী করবো?

ক্র্যাডল ক্যাপ সাধারণত নিরীহ এবং নিজে থেকেই কয়েক মাসে সেরে যায়। গোসলের ১৫ মিনিট আগে অল্প সুগন্ধিমুক্ত বেবি ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে আঁশ নরম করুন, তারপর Cetaphil Baby Wash & Shampoo দিয়ে ধুয়ে নরম ব্রাশে আলতো আঁচড়ান। নখ দিয়ে খুঁটবেন না। লাল হয়ে ছড়ালে, পানি ঝরলে, চুলকালে বা মুখ-শরীরে ছড়ালে ডাক্তার দেখান।

বাচ্চার একজিমা হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবো?

সাধারণ শীতের শুষ্কতা ময়েশ্চারাইজারে কয়েক দিনে কমে যায়; একজিমায় খসখসে, লাল, চুলকানো দাগ বারবার ফিরে আসে। ছোট বাচ্চার গাল, মাথা, হাত-পায়ের বাইরের দিকে বেশি হয়, আর বাচ্চা বিছানায় মুখ ঘষে। এমন দাগ দেখলে ডাক্তার দেখান। ততদিন দিনে ২ বার Sebamed Baby Cream Extra Soft লাগান, গোসল ছোট আর কুসুম গরম রাখুন।

বাচ্চার র‍্যাশ বা একজিমা হলে কখন ডাক্তার দেখাবো?

এই লক্ষণগুলোর যেকোনোটি দেখলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান: দাগ থেকে পানি বা পুঁজ ঝরা, হলুদ মামড়ি, ফোসকা, জ্বর, চুলকানিতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া, অথবা এক সপ্তাহ ময়েশ্চারাইজার দিয়েও না কমা। ৩ মাসের কম বয়সী বাচ্চার যেকোনো র‍্যাশেই আগে ডাক্তার দেখানো ভালো। নিজে থেকে কোনো স্টেরয়েড বা ওষুধি ক্রিম লাগাবেন না।

নবজাতকের ত্বকের চামড়া উঠছে, এটা কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, জন্মের পর ১–৩ সপ্তাহের মধ্যে হাত, পা আর গোড়ালির চামড়া উঠা খুবই স্বাভাবিক; নিচের নতুন ত্বক নিজেই তৈরি হয়। চামড়া টেনে তুলবেন না, ঘষবেন না। গোসল ছোট রাখুন আর শুকনো জায়গায় দিনে একবার অল্প Aveeno Baby Daily Moisture Lotion দিন। ফাটা জায়গা থেকে রক্ত পড়লে, লাল হয়ে ফুলে গেলে বা বাচ্চা অস্বস্তিতে থাকলে ডাক্তার দেখান।

বাচ্চার মুখ কী দিয়ে ধোবো, ফেসওয়াশ লাগবে কি?

বাচ্চার মুখে ফেসওয়াশ লাগে না; কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম তুলা বা কাপড়ই যথেষ্ট। চোখ ভেতর থেকে বাইরের দিকে মুছুন, প্রতিটি চোখে আলাদা তুলা নিন। মুখে দুধ বা খাবার লেগে থাকলে খুব অল্প Cetaphil Baby Wash & Shampoo পানিতে মিশিয়ে মুছে ফেলুন। তারপর আলতো শুকিয়ে গালে পাতলা বেবি ক্রিম দিন।

শীতের সকালে বাচ্চাকে রোদে রাখা কি ভালো?

হালকা সকালের রোদে অল্প সময় বাচ্চাকে নিয়ে বসা ঠিক আছে, কিন্তু সরাসরি কড়া রোদে খালি গায়ে দীর্ঘক্ষণ রাখবেন না; ৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চার ত্বক খুব সহজে পোড়ে। জন্ডিসের চিকিৎসা হিসেবে রোদ নিরাপদ বা নির্ভরযোগ্য নয়; হলুদ ভাব দেখলে ডাক্তার দেখান। ভিটামিন ডি লাগবে কিনা ডাক্তারের কাছে জেনে নিন।

কত মাস বয়স থেকে বাচ্চাকে সানস্ক্রিন দেওয়া যায়?

সাধারণত ৬ মাস বয়সের পর থেকে বাচ্চার জন্য তৈরি সানস্ক্রিন দেওয়া যায়, যেমন Aveeno Baby Continuous Protection Sensitive Skin Sunscreen SPF 50। ৬ মাসের আগে ছায়া, টুপি আর পাতলা লম্বা হাতার কাপড়ই সুরক্ষা। শীতে দুপুরে বাইরে গেলে মুখ, হাতের পিঠ আর পায়ে বের হওয়ার ১৫ মিনিট আগে লাগান, ২ ঘণ্টা পর পর আবার দিন।

উলের সোয়েটার পরালে বাচ্চার গায়ে লাল দানা আর চুলকানি হয়, কী করবো?

উলের আঁশ সংবেদনশীল ত্বকে ঘষা লেগে চুলকানি বা লাল দানা তৈরি করতে পারে। সোয়েটারের নিচে সবসময় নরম সুতির জামা পরান, গলায় আর কব্জিতে সুতি রাখুন। বেশি গরম কাপড়ে ঘাম জমলেও র‍্যাশ হয়, তাই স্তর বাড়ান-কমান। জামা পরানোর আগে Aveeno Baby Daily Moisture Lotion লাগান। দানা না কমলে বা ছড়ালে ডাক্তার দেখান।

বাচ্চার কাপড় কোন ডিটারজেন্টে ধুলে ত্বকে র‍্যাশ কম হয়?

বাচ্চার কাপড় সুগন্ধিমুক্ত, মাইল্ড ডিটারজেন্টে ধুয়ে দুইবার ভালো করে পানিতে ধোয়া সবচেয়ে নিরাপদ। ফ্যাব্রিক সফটনার আর কড়া সুগন্ধি এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো ত্বকে লেগে থেকে চুলকানি বাড়াতে পারে। নতুন কাপড় পরানোর আগে একবার ধুয়ে নিন। শীতে রোদে ভালো করে শুকান। তারপরও র‍্যাশ হলে ত্বকে সুগন্ধিমুক্ত বেবি ক্রিম দিন।

রুম হিটার চালালে বাচ্চার ত্বক শুকিয়ে যায়, কী করবো?

হিটার ঘরের বাতাস শুকিয়ে দেয়, তাই বাচ্চার ত্বক টানটান ও খসখসে হয়। হিটার বাচ্চার থেকে দূরে রাখুন, সারারাত চালাবেন না, আর ঘরে একটা পানির পাত্র বা ভেজা কাপড় রাখুন। ঘুমানোর আগে গাল, হাত আর পায়ে Sebamed Baby Cream Extra Soft লাগান। বাচ্চাকে বেশি গরম কাপড়ে মুড়ে রাখবেন না; ঘামলে র‍্যাশ হয়।

শীতে বাচ্চাকে পাউডার দেওয়া কি ঠিক?

শীতে বাচ্চাকে পাউডার দেওয়ার দরকার নেই, আর না দেওয়াই ভালো। পাউডার ত্বক আরও শুকিয়ে দেয়, আর বাতাসে উড়ে বাচ্চার নিঃশ্বাসে ঢুকতে পারে, যা ফুসফুসের জন্য ঝুঁকি। ভাঁজে আর্দ্রতা জমলে নরম কাপড়ে আলতো শুকিয়ে নিন। শুকনো ত্বকে পাউডারের বদলে পাতলা করে Aveeno Baby Daily Moisture Lotion লাগান।

বড়দের ক্রিম বা বডি লোশন কি ছোট বাচ্চাকে দেওয়া যায়?

৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চাকে বড়দের ক্রিম, বডি লোশন বা এসেনশিয়াল অয়েল দেবেন না। এগুলোতে সুগন্ধি, ব্রাইটেনিং উপাদান বা অ্যাসিড থাকতে পারে যা বাচ্চার পাতলা ত্বকে জ্বালা করে। শুধু শিশুর জন্য তৈরি সুগন্ধিমুক্ত পণ্য ব্যবহার করুন, যেমন Aveeno Baby Daily Moisture Lotion বা Sebamed Baby Cream Extra Soft। নতুন কিছু দিলে আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করুন।

শীতে বাচ্চার হাত-পা খসখসে আর ঠান্ডা থাকে, কী করবো?

বাচ্চার হাত-পা খসখসে হলে রাতে ঘুমানোর আগে ঘন বেবি ক্রিম লাগিয়ে নরম সুতির মোজা পরান, যেমন Sebamed Baby Cream Extra Soft। হাতে ক্রিম দিলে বাচ্চা মুখে নেয়, তাই খুব পাতলা করে দিন। হাত-পা একটু ঠান্ডা থাকা স্বাভাবিক; বুক আর পিঠ গরম আছে কিনা দেখুন। হাত-পা নীলচে হলে বা বাচ্চা নিস্তেজ লাগলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।

বাচ্চাকে তেল বা লোশন গোসলের আগে দেবো নাকি পরে?

ময়েশ্চারাইজার গোসলের পরে দেওয়াই সবচেয়ে কাজের, কারণ তখন ত্বক একটু ভেজা থাকে আর আর্দ্রতা আটকে যায়। গোসলের পর নরম তোয়ালেতে চেপে মুছে ৩ মিনিটের মধ্যে Aveeno Baby Daily Moisture Lotion লাগান। গোসলের আগে তেল দিলে বাচ্চা পিছলে যেতে পারে আর বেশি সাবান লাগে। মালিশ করতে চাইলে গোসলের পরেই করুন।

শীতে স্কুলে যাওয়ার আগে বাচ্চাকে কী লাগিয়ে দেবো?

স্কুলে যাওয়ার আগে মুখ ধুয়ে মুখ, হাত আর পায়ে একটা মাইল্ড, সুগন্ধিমুক্ত লোশন লাগান, যেমন Cetaphil Moisturizing Lotion for Normal to Dry Sensitive Skin। ঠোঁটে লিপ বাম দিন। সকালের অ্যাসেম্বলি বা মাঠে খেলা থাকলে মুখে আর হাতে সানস্ক্রিনও দিন। পুরো কাজে ২ মিনিট লাগে; ব্যাগে ছোট একটা লোশন দিলে টিফিনের পর আবার লাগাতে পারবে।

শীতে বাচ্চার ঠোঁট বারবার ফাটে, কোন লিপ বাম দেবো?

৩ বছরের বেশি বয়সী বাচ্চার জন্য সাধারণ, কম সুগন্ধির লিপ বাম চলে, যেমন Sebamed Lip Defense SPF30 Cherry Lip Balm, যাতে দিনের রোদেও সুরক্ষা থাকে। সকালে স্কুলের আগে, টিফিনের পর আর রাতে ঘুমের আগে লাগান। ঠোঁটের চামড়া টেনে তুলতে দেবেন না। ব্রাইটেনিং বা রঙিন বাম দেবেন না। ঠোঁটের কোণ ফেটে ঘা হলে বা রক্ত পড়লে ডাক্তার দেখান।

বাচ্চা ঠোঁট চাটে, ঠোঁটের চারপাশে লাল দাগ হয়ে গেছে, কী করবো?

ঠোঁট চাটার কারণে লালা শুকিয়ে ঠোঁটের চারপাশে লাল, খসখসে রিং হয়; শীতে এটা খুব সাধারণ। ঠোঁট আর চারপাশের ত্বকে দিনে কয়েকবার ঘন, মাইল্ড মলম লাগান, যেমন Bioderma Atoderm Intensive Baume। খাওয়ার পর মুখ মুছে আবার দিন, আর বাচ্চাকে চাটার অভ্যাস নিয়ে নরমভাবে মনে করিয়ে দিন। ২ সপ্তাহে না কমলে বা ঘা হলে ডাক্তার দেখান।

বারবার হাত ধোয়ায় বাচ্চার হাত ফেটে যাচ্ছে, কী করবো?

হাত ধোয়া বন্ধ করবেন না; ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অভ্যাস করান। কুসুম গরম পানি আর মাইল্ড সাবান ব্যবহার করুন, তারপর হাত পুরো শুকিয়ে অল্প CeraVe Moisturising Lotion for Dry to Very Dry Skin লাগান। আলাদা হ্যান্ড ক্রিম এখন আমাদের শেলফে নেই; এই লোশন বা রাতে ঘন ক্রিমই ভালো কাজ করে। ফাটা থেকে রক্ত বা পুঁজ হলে ডাক্তার দেখান।

মাঠে খেলে এসে বাচ্চার মুখ লাল আর রুক্ষ হয়ে যায়, কী করবো?

শীতের শুকনো বাতাস আর ধুলা খেলার পর মুখ রুক্ষ করে দেয়। খেলা শেষে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ-হাত ধুয়ে নরম তোয়ালেতে চেপে মুছুন, তারপর মুখে Cetaphil Moisturizing Lotion for Normal to Dry Sensitive Skin লাগান। খেলার আগে মুখে ময়েশ্চারাইজার আর সানস্ক্রিন দিলে বাতাসের ক্ষতি কম হয়। জ্বালা, ফোলা বা চুলকানি থাকলে ডাক্তার দেখান।

শীতে কি বাচ্চাদের সানস্ক্রিন দিতে হয়?

হ্যাঁ, বাচ্চা যদি স্কুলের মাঠে, পিকনিকে বা ভ্রমণে দুপুরের রোদে থাকে, শীতেও সানস্ক্রিন দরকার। বাচ্চাদের জন্য মাইল্ড সানস্ক্রিন বেছে নিন, যেমন Aveeno Baby Continuous Protection Sensitive Skin Sunscreen SPF 50। বের হওয়ার ১৫ মিনিট আগে মুখ, কান, ঘাড় আর হাতে লাগান, ২ ঘণ্টা পর আবার দিন। সাথে টুপি দিন।

স্কুলে বাচ্চা নিজে সানস্ক্রিন লাগাতে পারবে, এমন সহজ কিছু আছে?

হ্যাঁ, স্টিক সানস্ক্রিন বাচ্চারা নিজে সহজে লাগাতে পারে আর ব্যাগে পড়ে না, যেমন Cetaphil Sheer Mineral Sunscreen Stick SPF-50। টিফিনের পর বা মাঠে যাওয়ার আগে কপাল, নাক, গাল আর কানে ৩–৪ বার ঘষে লাগাতে শিখিয়ে দিন। চোখের খুব কাছে লাগাবে না। বাড়ি ফিরে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার দিন।

৫–১২ বছরের বাচ্চা কি বড়দের ক্রিম ব্যবহার করতে পারে?

সাধারণ, সুগন্ধিমুক্ত ময়েশ্চারাইজার বড়দের হলেও বাচ্চারা সাধারণত ব্যবহার করতে পারে, যেমন Cerave Moisturizing Cream For Normal To Dry Skin। কিন্তু রেটিনল, AHA/BHA, ভিটামিন সি সিরাম, ব্রাইটেনিং বা রং হালকা করার ক্রিম আর ব্রণের ওষুধ বাচ্চাদের দেবেন না, ডাক্তার না বললে। নতুন কিছু দিলে আগে হাতে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করুন।

শীতে বাচ্চারা গরম পানিতে অনেকক্ষণ গোসল করে, এতে কি ক্ষতি?

হ্যাঁ, খুব গরম পানিতে লম্বা গোসল ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে, ফলে চুলকানি আর খসখসে ভাব বাড়ে। পানি কুসুম গরম রাখুন, গোসল ৫–১০ মিনিটে শেষ করুন, সাবান শুধু ঘাম জমার জায়গায়। গোসলের পর ৩ মিনিটের মধ্যে CeraVe Moisturising Lotion for Dry to Very Dry Skin সারা গায়ে লাগান।

শীতে বাচ্চাদের কি প্রতিদিন গোসল করানো দরকার?

স্কুলগামী বাচ্চারা ঘামে, ধুলায় খেলে, তাই শীতেও প্রতিদিন বা একদিন পর পর ছোট গোসল ঠিক আছে। মূল নিয়ম হলো গোসল ছোট, পানি কুসুম গরম আর মাইল্ড সাবান। ত্বক খুব শুকনো হলে একদিন পর পর পুরো গোসল আর মাঝে হাত-মুখ-পা ধোয়া যথেষ্ট। প্রতিবার গোসলের পর সারা শরীরে লোশন দিন।

শীতে বাচ্চার পায়ের গোড়ালি ফেটে যাচ্ছে, কী লাগাবো?

বাচ্চার ফাটা গোড়ালিতে রাতে ঘুমানোর আগে ঘন ক্রিম লাগিয়ে সুতির মোজা পরিয়ে দিন। আলাদা ফুট বা হিল ক্রিম এখন আমাদের শেলফে নেই, তবে Cerave Moisturising Cream For Dry to Very Dry Skin এ কাজটা ভালো করে। খালি পায়ে ঠান্ডা মেঝেতে হাঁটা কমান। পায়ে পাথর ঘষবেন না। ফাটায় রক্ত, ফোলা বা ব্যথা থাকলে ডাক্তার দেখান।

শীতে বাচ্চার গালে সাদা সাদা খসখসে ছোপ হয়, এটা কী?

বাচ্চাদের গালে হালকা সাদা, খসখসে ছোপ প্রায়ই শুষ্কতার কারণে হয় (অনেক সময় একে পিটিরিয়াসিস অ্যালবা বলে), যা শীতে বেশি দেখা যায় এবং ছোঁয়াচে নয়। দিনে ২ বার মুখে Cerave Moisturizing Cream For Normal To Dry Skin লাগান, দিনে বাইরে গেলে সানস্ক্রিন দিন। রং ফিরতে কয়েক মাস লাগে। ছোপ বাড়লে, চুলকালে বা সীমানা স্পষ্ট লাল হলে ডাক্তার দেখান।

১১–১২ বছরে বাচ্চার মুখে ব্রণ উঠছে, এখন কি টিনেজ স্কিনকেয়ার লাগবে?

হ্যাঁ, বয়ঃসন্ধি শুরু হলে ৩ ধাপের সহজ রুটিনই যথেষ্ট: সকাল-রাতে মাইল্ড ফেসওয়াশ, হালকা ময়েশ্চারাইজার, আর দিনে সানস্ক্রিন। শীতে CeraVe Foaming Facial Cleanser দিনে দুইবার, তারপর হালকা লোশন দিন। কড়া স্ক্রাব আর বড়দের ব্রণের ওষুধ নিজে থেকে দেবেন না। বিস্তারিত দেখুন আমাদের টিনেজ গাইডে; ব্যথাযুক্ত বড় ব্রণ বা দাগ হলে ডাক্তার দেখান।

পরের অংশ: বয়স্ক, গর্ভবতী ও বিশেষ অবস্থা