Skip to main content
✓ 100% Verified Products2× Money Back if FakeFree Delivery across BD*bKash · Nagad · COD

ঘরোয়া টোটকা: সত্য না ভুল

গ্লিসারিন-গোলাপজল, সরিষার তেল, নারকেল তেল, ভ্যাসলিন, মধু, দুধের সর ও লেবু।

গ্লিসারিন আর গোলাপ জল কী অনুপাতে মেশাবো?

মুখের জন্য ১ ভাগ গ্লিসারিনের সাথে ৪–৫ ভাগ গোলাপ জল, যেমন ১ চা-চামচ গ্লিসারিন আর ৪ চা-চামচ গোলাপ জল। এর চেয়ে ঘন হলে চটচটে লাগে আর শুকনো বাতাসে উল্টো টানটান করতে পারে। ভেজা মুখে কয়েক ফোঁটা লাগান, ওপরে একটা ক্রিম দিন। পরিষ্কার কাচের বোতলে বানিয়ে ১–২ সপ্তাহে শেষ করুন। তৈরি বিকল্প চাইলে The Ordinary Natural Moisturizing Factors + Beta Glucan এ গ্লিসারিন আছে।

গ্লিসারিন-গোলাপ জল মুখে লাগানো কি নিরাপদ? রাতে রেখে ঘুমানো যাবে?

বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ; গ্লিসারিন একটা প্রমাণিত হিউমেক্ট্যান্ট, মানে বাতাস ও ত্বকের ভেতর থেকে পানি টেনে ধরে রাখে। রাতে রেখে ঘুমানো যায়, তবে শুধু এটা দিলে শুকনো বাতাসে পানি আবার উড়ে যায়, তাই ওপরে ক্রিম দিন। ব্রণপ্রবণ ত্বকে চটচটে ভাবে ধুলা আটকে যায়। গোলাপ জলে সুগন্ধি থাকলে আগে প্যাচ টেস্ট করুন। ওপরে ঢাকনা হিসেবে Cerave Moisturizing Cream For Normal To Dry Skin ভালো।

খাঁটি গ্লিসারিন সরাসরি ঠোঁটে বা মুখে লাগালে কী হয়?

খাঁটি গ্লিসারিন সরাসরি না লাগানোই ভালো, কারণ খুব শুকনো বাতাসে এটা ত্বকের ভেতর থেকে পানি টেনে ওপরে আনে, ফলে ঠোঁট আরও টানটান হতে পারে, আর খুব চটচটে লাগে। সবসময় পানি বা গোলাপ জলে পাতলা করে দিন। ফাটা ঠোঁটে গ্লিসারিনের বদলে ঢেকে রাখে এমন বাম ভালো, যেমন Vaseline Lip Therapy Cocoa Butter; দিনে কয়েকবার, আর ঘুমানোর আগে মোটা করে।

শুধু গোলাপ জল লাগালে কি শীতে মুখ শুকায় না?

না, শুধু গোলাপ জল ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে না। এটা মূলত সুগন্ধি পানি; কিছুক্ষণ সতেজ লাগে, তারপর পানি উড়ে গিয়ে মুখ আরও টানটান হতে পারে। টোনার হিসেবে মুখ ধোয়ার পর চেপে লাগাতে পারেন, কিন্তু তারপর অবশ্যই ক্রিম দিন। তৈরি মৃদু বিকল্প চাইলে Simple Kind to Skin Soothing Facial Toner সুগন্ধি ছাড়াই একই কাজ করে।

বাজারের সব গোলাপ জল কি আসল? কেনার সময় কী দেখবো?

না, অনেক গোলাপ জল আসলে পানি আর কৃত্রিম সুগন্ধি, কোনোটায় অ্যালকোহলও থাকে। লেবেলে উপাদান দেখুন: Rosa damascena flower water বা rose distillate থাকলে ভালো; fragrance, perfume বা alcohol প্রথম দিকে থাকলে এড়িয়ে চলুন। খোলার পর ঠান্ডা জায়গায় রেখে কয়েক মাসে শেষ করুন। সংবেদনশীল ত্বকে সুগন্ধিমুক্ত হাইড্রেটিং টোনার, যেমন Cerave Hydrating Toner, বেশি নিরাপদ।

শীতে গোসলের আগে বা পরে শরীরে সরিষার তেল মাখা কি ভালো?

অনেকের জন্য চলে, তবে সবার জন্য নয়। সরিষার তেল ত্বক ঢেকে রাখে, তাই শুকনো ভাব কমায়; কিন্তু এর ঝাঁঝালো উপাদান সংবেদনশীল, চুলকানো বা একজিমাপ্রবণ ত্বকে জ্বালা করতে পারে। মাখলে গোসলের পর ভেজা শরীরে অল্প দিন, গোসলের আগে নয়। জ্বালা বা লালচে দানা হলে বন্ধ করুন। তেল সহ্য না হলে CeraVe Moisturising Lotion for Dry to Very Dry Skin ভালো বিকল্প।

মুখে সরিষার তেল লাগানো যায়?

মুখে সরিষার তেল না দেওয়াই ভালো। এটা ঘন, লোমকূপ আটকে ব্রণ বাড়াতে পারে, আর এর ঝাঁঝালো উপাদান মুখের পাতলা ত্বকে জ্বালা ও লালচে ভাব আনতে পারে। মুখের শুষ্কতায় রাতে মুখ ধুয়ে ভেজা ত্বকে একটা ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম দিন, যেমন Simple Kind To Skin Replenishing Rich Moisturiser। খুব শুকনো জায়গায় একটু বেশি দিন, আর সকালে সানস্ক্রিন।

শিশুর বুকে-পিঠে রসুন দিয়ে গরম করা সরিষার তেল মাখানো কি ঠিক?

না, এটা এড়িয়ে চলাই ভালো। রসুন আর সরিষা দুটোই ঝাঁঝালো, শিশুর পাতলা ত্বকে জ্বালা ও লালচে দানা করতে পারে, আর বেশি গরম তেলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে সর্দি কমার প্রমাণও নেই। শিশুকে ভালো কাপড়ে গরম রাখুন, ত্বকে সুগন্ধিমুক্ত Aveeno Baby Daily Moisture Lotion দিন। শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা খাওয়া কমে গেলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।

নাভিতে সরিষার তেল দিলে কি ঠোঁট ফাটা কমে?

না, নাভিতে তেল দিলে ঠোঁট ফাটা কমে, এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই; নাভি আর ঠোঁটের মধ্যে এমন কোনো সংযোগ নেই। এটা পুরনো বিশ্বাস, ক্ষতিও তেমন নেই, তবে কাজ পেতে বাম সরাসরি ঠোঁটে দিতে হবে। দিনে SPF বাম, রাতে মোটা স্তর, যেমন Dot & Key Barrier Repair Ceramide + Peptide Lip Balm। ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন আর পর্যাপ্ত পানি খান।

শীতে মুখে নারকেল তেল লাগানো কি ভালো?

শুষ্ক, ব্রণহীন ত্বকে রাতে অল্প নারকেল তেল চলতে পারে, কিন্তু বেশিরভাগ মুখের জন্য এটা ভালো পছন্দ নয়। নারকেল তেল লোমকূপ আটকানোর জন্য পরিচিত, তাই ব্রণ, হোয়াইটহেড বা তৈলাক্ত ত্বকে দেবেন না। দিলে ময়েশ্চারাইজারের পর ১–২ ফোঁটা, শুধু শুকনো জায়গায়। বেশিরভাগের জন্য সেরামাইড ক্রিম নিরাপদ, যেমন The Face Shop Rice Ceramide Moisturizing Cream।

ব্রণ আছে, নারকেল তেল দিলে কি ব্রণ কমবে?

না, উল্টো বাড়তে পারে। নারকেল তেলের কিছু উপাদান ল্যাবে জীবাণু কমায় শুনে অনেকে লাগান, কিন্তু মুখে মাখলে এটা লোমকূপ আটকে নতুন ব্রণ ও হোয়াইটহেড আনে। ব্রণপ্রবণ ত্বকে শীতে হালকা, লোমকূপ না আটকানো জেল-ক্রিম নিন, যেমন Cerave Oil Control Moisturizing Gel Cream, সকাল-রাত মটরদানা পরিমাণ। ব্রণের জায়গায় স্যালিসাইলিক ক্লিনজার দিনে একবার।

রান্নার নারকেল তেল চুলে দেওয়া যায়? শীতে তেল জমে যায়, কী করবো?

হ্যাঁ, খাঁটি নারকেল তেল রান্নার হোক বা চুলের, মূলত একই তেল; তবে সুগন্ধি বা অন্য তেল মেশানো থাকলে লেবেল দেখে নিন। শীতে জমে গেলে বোতলটা কয়েক মিনিট কুসুম গরম পানিতে রাখুন, চুলায় গরম করবেন না। শ্যাম্পুর ১–২ ঘণ্টা আগে চুলের লম্বা অংশে লাগান। Ribana Organic Coconut Oil এর মতো নারকেল তেল প্রায় ২৪ ডিগ্রির নিচে জমে যাওয়া স্বাভাবিক।

শীতে মুখে ও শরীরে অলিভ অয়েল লাগানো কি ভালো?

শরীরের শুষ্ক জায়গায় (হাঁটু, কনুই, পা) গোসলের পর ভেজা ত্বকে অল্প অলিভ অয়েল চলে, তবে মুখে নিয়মিত না দেওয়াই ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, অলিভ অয়েলের ওলেইক অ্যাসিড নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের ব্যারিয়ার দুর্বল করতে পারে, বিশেষ করে একজিমা বা সংবেদনশীল ত্বকে। মুখের জন্য সেরামাইড ক্রিম, যেমন Cerave Moisturising Cream For Dry to Very Dry Skin, রাতে দুই মটরদানা পরিমাণ।

শীতে গোড়ালি আর হাত-পায়ে ভ্যাসলিন লাগানো কি ঠিক?

হ্যাঁ, শরীরের শুষ্ক-ফাটা জায়গায় পেট্রোলিয়াম জেলি খুব ভালো ঢাকনা, পানি উড়ে যাওয়া আটকায়। সবচেয়ে ভালো কাজ করে ভেজা ত্বকে: রাতে পা ধুয়ে, হালকা মুছে, পাতলা স্তর দিয়ে সুতির মোজা পরুন। এটা নিজে আর্দ্রতা দেয় না, তাই খুব শুকনো ত্বকে আগে লোশন দিন। সাধারণ পেট্রোলিয়াম জেলি এখন আমাদের তাকে নেই; রাতে গোড়ালিতে ঘন Bioderma Atoderm Intensive Baume একই কাজ করে।

ভ্যাসলিন লাগালে কি ঠোঁট কালো হয়ে যায়?

না, খাঁটি পেট্রোলিয়াম জেলি নিজে ঠোঁট কালো করে না। শীতে ঠোঁট কালচে লাগার আসল কারণ সাধারণত রোদ, বারবার চাটা, ধূমপান আর ফাটা ঠোঁটের জমে থাকা পুরনো চামড়া। জেলি রোদ ঠেকায় না, তাই দিনে SPF বাম দিন, যেমন Fix Derma Lip Shield SPF50 PA+++, আর রাতে ঘন বাম। ঠোঁটে কালো ছোপ বাড়তে থাকলে বা ঘা না শুকালে ডাক্তার দেখান।

ফাটা ঠোঁটে ঘি লাগানো কি কাজ করে?

অল্প সময়ের জন্য কাজ করে, কারণ ঘি চর্বি দিয়ে ঠোঁট ঢেকে রাখে; তাই নানি-দাদিদের এই টোটকায় ক্ষতি তেমন নেই। সমস্যা হলো ঘি দ্রুত মুছে যায়, খেয়ে ফেলা হয়, আর পুরনো হলে গন্ধ হয়। রাতে পরিষ্কার আঙুলে পাতলা স্তর দিতে পারেন। দিনে বাইরে গেলে SPF বাম লাগে, যা ঘি দিতে পারে না। রাতে বেশিক্ষণ টেকে এমন বিকল্প Laneige Lip sleeping mask।

শীতে মুখে মধুর প্যাক দেওয়া কি ভালো?

হ্যাঁ, বেশিরভাগ মানুষের জন্য খাঁটি মধু একটা মৃদু, নিরাপদ প্যাক। মধু পানি টেনে ধরে আর এতে জীবাণু কমানোর গুণ আছে। পরিষ্কার ভেজা মুখে পাতলা করে ১০–১৫ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন, তারপর ক্রিম দিন; সপ্তাহে ১–২ বার। পরাগ বা মৌমাছিতে অ্যালার্জি থাকলে দেবেন না। রোজকার আর্দ্রতার জন্য The Ordinary Hyaluronic Acid 2% + B5 বেশি সুবিধাজনক।

মুখে দুধের সর লাগালে কি শীতে ত্বক নরম হয়?

হ্যাঁ, কিছুক্ষণের জন্য নরম লাগে, কারণ সরের চর্বি ত্বক ঢেকে রাখে। দিলে তাজা, ঠান্ডা সর পাতলা করে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন; রাতভর রাখবেন না, কারণ দুধের চর্বি ঘরের তাপে নষ্ট হয়ে গন্ধ আর জীবাণু বাড়ায়। ব্রণপ্রবণ ত্বকে এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিনের জন্য একই রকম ঘন আরাম দেয় Cetaphil Rich Hydrating Cream, রাতে মুখ ধুয়ে লাগান।

শীতে অ্যালোভেরা জেল লাগানো কি ঠিক, নাকি এটা শুধু গরমের জন্য?

শীতেও চলে, তবে একা যথেষ্ট নয়। অ্যালোভেরা জেল প্রায় পুরোটাই পানি, তাই আরাম দেয় কিন্তু শুকনো বাতাসে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না। রাতে মুখ ধুয়ে Bring Green Aloe 97% Soothing Gel এর পাতলা স্তর দিন, এক মিনিট পর ওপরে ক্রিম। তৈলাক্ত ত্বকে শুধু জেলই অনেক সময় যথেষ্ট। অ্যালকোহল আর সুগন্ধি বেশি থাকলে শুষ্ক ত্বকে জ্বালা করতে পারে।

গাছ থেকে কাটা অ্যালোভেরা পাতা সরাসরি মুখে লাগানো যায়?

যায়, তবে সাবধানে। পাতা কাটলে যে হলুদ কষ (অ্যালোইন) বের হয়, তা অনেকের ত্বকে চুলকানি ও লালচে ভাব আনে। কাটা পাতা ১০–১৫ মিনিট খাড়া করে রেখে হলুদ কষ ঝরিয়ে নিন, ধুয়ে শুধু ভেতরের স্বচ্ছ শাঁস নিন। আগে কানের পেছনে প্যাচ টেস্ট করুন। ফ্রিজে রেখে ২–৩ দিনে শেষ করুন। পরিষ্কার তৈরি বিকল্প Nature Republic Aloe Vera 92% Soothing Gel।

মুখে লেবুর রস লাগানো কেন ক্ষতিকর?

লেবুর রস খুব অম্লীয় (pH প্রায় ২), তাই ত্বকের প্রতিরক্ষা স্তর নষ্ট করে, জ্বালা আর শুষ্কতা বাড়ায়; শীতে এই ক্ষতি আরও বেশি। এর কিছু উপাদান ত্বকে থেকে রোদে লাগলে পোড়ার মতো কালো দাগ (ফাইটোফটোডার্মাটাইটিস) তৈরি করতে পারে। উজ্জ্বলতার জন্য পরীক্ষিত, স্থির ভিটামিন সি নিন, যেমন The Ordinary Ascorbyl Glucoside Solution 12%, সকালে ২–৩ ফোঁটা, তারপর সানস্ক্রিন।

কালো কনুই-হাঁটুতে লেবু ঘষলে কি কাজ হয়?

না, লেবু ঘষলে কালো ভাব কমে না; ঘষা আর অম্লে চামড়া আরও শুকিয়ে মোটা ও কালচে হতে পারে। কনুই-হাঁটু কালো হয় মূলত ঘষা লাগা আর শুষ্কতায় জমা মরা চামড়ার কারণে। রাতে গোসলের পর স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত লোশন, যেমন CeraVe SA Lotion for Rough & Bumpy Skin, লাগান, দিনে ঘন ময়েশ্চারাইজার। ৪–৬ সপ্তাহে খসখসে ভাব আর কিছুটা কালচে ভাব কমে।

বেকিং সোডা দিয়ে মুখ ঘষা বা ব্ল্যাকহেড তোলা কি ঠিক?

না, বেকিং সোডা মুখে দেবেন না। এটা খুব ক্ষারীয় (pH প্রায় ৯), অথচ ত্বকের স্বাভাবিক pH প্রায় ৫; ফলে প্রতিরক্ষা স্তর ভেঙে শুষ্কতা, লালচে ভাব আর জ্বালা হয়, শীতে আরও বেশি। এর দানাও সূক্ষ্ম আঁচড় দেয়। ব্ল্যাকহেডের জন্য BHA ভালো: COSRX BHA Blackhead Power Liquid সপ্তাহে ২ রাত নাকে আর থুতনিতে, তারপর ময়েশ্চারাইজার।

ব্রণে টুথপেস্ট লাগালে শুকায় কেন, আর এর ক্ষতি কী?

টুথপেস্টের সোডিয়াম লরিল সালফেট, মেন্থল আর বেকিং সোডা ব্রণের চারপাশের চামড়া শুকিয়ে দেয়, তাই ছোট মনে হয়, কিন্তু ভেতরের ব্রণ তাড়াতাড়ি ভালো হয় না। উল্টো জ্বালা, লাল বা কালচে দাগ আর চামড়া ওঠা হতে পারে, শীতে আরও বেশি। পরিষ্কার, শুকনো ব্রণে COSRX Acne Pimple Master Patch লাগিয়ে রাতভর রাখুন; এটা খোঁটা থেকে বাঁচায় আর ভেতরের তরল শুষে নেয়।

শীতে কাঁচা হলুদের প্যাক মুখে দেওয়া কি ভালো?

মাঝে মাঝে দেওয়া যায়, তবে বেশি আশা করবেন না। হলুদের কারকিউমিন ত্বকে প্রদাহ কমাতে পারে, এর সামান্য প্রমাণ আছে, কিন্তু ত্বক উজ্জ্বল করার জোরালো প্রমাণ নেই। কাঁচা হলুদে হলুদ ছোপ পড়ে, কারও কারও অ্যালার্জিও হয়। দিলে দই বা মধুর সাথে অল্প মিশিয়ে ১০ মিনিট, সপ্তাহে একবার, তারপর ক্রিম। নিয়মিত উজ্জ্বলতার জন্য Minimalist Niacinamide 5% Face Serum বেশি নির্ভরযোগ্য।

হলুদ-দুধ মাখলে কি মুখের কালো দাগ যায়?

না, হলুদ-দুধে কালো দাগ বা মেছতা যায়, এর ভালো প্রমাণ নেই। দাগ হালকা করতে দুইটা জিনিস সত্যিই কাজ করে: প্রতিদিনের সানস্ক্রিন আর প্রমাণিত উপাদান (নিয়াসিনামাইড, আজেলাইক অ্যাসিড, আলফা আরবুটিন)। যেমন রাতে ANUA Azelaic Acid 10+ Hyaluron Redness Soothing Serum এর ২–৩ ফোঁটা, সকালে SPF 50 সানস্ক্রিন। ৮–১২ সপ্তাহ নিয়মিত দিলে দাগ হালকা হয়।

শীতে বেসন দিয়ে মুখ ধোয়া বা প্যাক দেওয়া কি ঠিক?

তৈলাক্ত ত্বকে মাঝে মাঝে চলে, কিন্তু শীতে শুষ্ক ত্বকে বেসন আরও শুকিয়ে টানটান করে, কারণ এটা তেল শুষে নেয় আর ঘষলে আঁচড় দেয়। দিলে দই বা দুধে নরম করে মিশিয়ে, না ঘষে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন, সপ্তাহে একবার, তারপর ক্রিম। রোজ মুখ ধোয়ার জন্য মৃদু ক্লিনজার ভালো, যেমন Cetaphil Gentle Skin Cleanser Normal To Dry Skin।

আলু বা টমেটোর রস মুখে লাগালে কি দাগ আর রোদে পোড়া কমে?

খুব সামান্য, আর প্রমাণও দুর্বল। আলুর রস ঠান্ডা লাগে, চোখের নিচের ফোলা কিছুক্ষণ কমাতে পারে; টমেটো অম্লীয়, শীতে শুষ্ক ত্বকে জ্বালা করতে পারে। রোদে পোড়া কালচে ভাব সময়ের সাথে আর সানস্ক্রিনেই কমে। রোজ সকালে দুই আঙুল পরিমাণ SPF 50 দিন, যেমন Beauty of Joseon Relief Sun Aqua-Fresh Rice + B5, আর রাতে একটা নিয়াসিনামাইড সিরাম।

কাঁচা দুধ দিয়ে মুখ মুছলে কি শীতে উপকার হয়?

কাঁচা দুধে সামান্য ল্যাকটিক অ্যাসিড আর চর্বি আছে, তাই মুখ কিছুটা নরম লাগতে পারে। কিন্তু না ফোটানো দুধে জীবাণু থাকতে পারে, বিশেষ করে কাটা-ফাটা বা ব্রণের ত্বকে এটা ঝুঁকি। দিলে ফোটানো ঠান্ডা দুধ তুলায় নিয়ে মুছে ৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। পরিষ্কার, স্থির বিকল্প চাইলে মুখ ধোয়ার পর Cerave Hydrating Toner হাতে চেপে লাগান, তারপর ক্রিম।

ডিমের সাদা অংশ বা কুসুম দিয়ে মুখে প্যাক দেওয়া কি ঠিক?

এর ভালো প্রমাণ নেই, আর ঝুঁকি আছে। ডিমের সাদা অংশ শুকিয়ে টানটান করে, তাই কিছুক্ষণ লোমকূপ ছোট দেখায়, কিন্তু শীতে শুষ্ক ত্বক আরও টানটান হয়। কাঁচা ডিমে সালমোনেলা জীবাণু থাকতে পারে, মুখ আর ঠোঁটের কাছে যা ঝুঁকিপূর্ণ; ডিমে অ্যালার্জি থাকলে একদম নয়। নরম ভাবের জন্য নিয়মিত ক্রিম ভালো, যেমন রাতে Purito Mighty Bamboo Panthenol Cream।

ঘরে বানানো ফর্সা হওয়ার প্যাক কি কাজ করে? আপনারা কেন সাজেস্ট করেন না?

আমরা ফর্সা হওয়ার প্যাক সাজেস্ট করি না, কারণ ত্বকের স্বাভাবিক রং বদলানো যায় না, আর তার দরকারও নেই। লেবু, বেকিং সোডা, টমেটো বা কড়া ঘষার এসব প্যাক উল্টো জ্বালা, শুষ্কতা আর কালচে ছোপ বাড়ায়। যা সত্যিই সম্ভব তা হলো রোদে পোড়া কমানো আর ত্বক সুস্থ ও সমান রাখা: রোজ সানস্ক্রিন, ময়েশ্চারাইজার, আর দাগে নিয়াসিনামাইড। শুরু করুন Beauty of Joseon Relief Sun: Rice + Niacinamide দিয়ে।

চিনি দিয়ে মুখ স্ক্রাব করলে কি মরা চামড়া ওঠে?

ওঠে, কিন্তু মুখের জন্য এটা ভালো উপায় নয়। চিনির দানা ধারালো, শুকনো ত্বকে সূক্ষ্ম আঁচড় দেয় আর শীতে লালচে ভাব ও জ্বালা বাড়ায়। ঠোঁটে মধুর সাথে খুব আলতো করে সপ্তাহে একবার চলতে পারে। মুখে মৃদু এসিড ভালো: The Ordinary Glycolic Acid 7% Exfoliating Toner সপ্তাহে এক রাত তুলায় একবার মুছে, তারপর ক্রিম, আর পরদিন সকালে সানস্ক্রিন।

শীতে শরীরে লবণ বা চিনির স্ক্রাব ঘষা কি ঠিক?

শরীরের খসখসে জায়গায় (হাঁটু, কনুই, পা) সপ্তাহে একবার আলতো ঘষা চলে, তবে লবণ কাটা-ফাটা ত্বকে জ্বালা করে আর বেশি ঘষলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়। শেভ বা ওয়্যাক্সের পর দেবেন না। ভেজা ত্বকে নরম হাতে ১–২ মিনিট ঘষে ধুয়ে লোশন দিন। আরও সহজ বিকল্প Skinlogic Exfoliating Shower Gloves, সাবান বা বডি ওয়াশের সাথে সপ্তাহে ১–২ বার আলতো ঘষুন।

শীতে মুলতানি মাটির প্যাক দেওয়া যায়?

তৈলাক্ত ত্বকে সপ্তাহে একবার শুধু টি-জোনে চলে, কিন্তু শুষ্ক বা স্বাভাবিক ত্বকে শীতে এড়িয়ে চলাই ভালো। মুলতানি মাটি তেল শুষে নেয়; পুরো শুকিয়ে ফাটা পর্যন্ত রাখলে ত্বক টানটান ও খসখসে হয়। দিলে গোলাপ জল বা দইয়ে মিশিয়ে আধা-শুকনো অবস্থায় (৮–১০ মিনিটে) ধুয়ে ফেলুন, তারপর ক্রিম। না শুকিয়ে তেল সামলাতে Neutrogena Hydro Boost Water Gel ভালো।

ঘরে বানানো প্যাক বা মিশ্রণ কত দিন রাখা যায়?

ফল, দুধ, দই, ডিম বা অ্যালোভেরার মিশ্রণ বানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করুন, রেখে দেবেন না। গ্লিসারিন-গোলাপ জলের মতো পানিভিত্তিক মিশ্রণ পরিষ্কার বোতলে ফ্রিজে ১–২ সপ্তাহ রাখা যায়। ঘরে বানানো জিনিসে প্রিজারভেটিভ নেই, তাই জীবাণু দ্রুত জন্মায়; গন্ধ, রং বা ঘোলা ভাব বদলালেই ফেলে দিন। নতুন টোটকা আগে কানের পেছনে প্যাচ টেস্ট করুন। স্থির বিকল্প চাইলে Isntree Hyaluronic Acid Toner।

পরের অংশ: জীবনযাপন ও আবহাওয়া